International Witchcraft Organization

Third Eye Radiation
Creator of the Trataka worship

ত্রাটক সাধনায় আত্মচেতনার রহস্যঃ

আত্মচেতনা হল সেই শক্তি যা নিজে নিজেই কাজ করে চলে। একে ইংরেজীতে (Instinctive Mind) বলা হয়। এই আত্মচেতনা কোন কিছুর বিচার করে না বা সিদ্ধান্তও নেয় না। কিন্তু প্রথম থেকেই এটি সহজবু্দ্ধিতেকাজ করে যায়। কেউ অসুস্থ হলে এটি তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করে। যদি আপনি ভীত হন ও হৃৎপিণ্ড দ্রুত লয়ে চলছে এমন হয় তবে এটি হৃৎপিণ্ডের গতিকে ধীর করবে। এটি সবসময় সাধককে ভালরাখার ও সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে।
আত্মচেতনা সাধকের মানসিক শক্তির শ্রোত। যখন সাধকের কোন বিপদের আশঙ্কা আসে তখন সে তার আভাস পূর্ব থেকেই দিয়ে দেয়। কখনো কখনো আত্মচেতনা  শক্তি তার অতীন্দ্রিয় দৃষ্টির দ্বারা ভবিষ্যৎ- এর বিপদ সম্পর্কে, তা শারীরিক হোক বা মানসিক, সাধককে হুঁশিয়ার করে দেয়।
কোন কাজ করার আগে সেই কাজ সাধকের দ্বারা হবে কিনা সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হলে তখনই আত্মচেতনা শক্তি দ্বারা সে কাজ সহজেই সম্পন্ন করা যাবে। কিন্তু যদি সাধক উক্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে পারার ব্যাপারে সন্দিহান হন তবে ঐ শক্তি কিন্তু কাজ করবে না।
যেকোন প্রকার কঠিন ও আশ্চর্য কাজ করার ক্ষমতা আমাদের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় আছে কিন্তু আমরা তাকে জাগাবার চেষ্টাই করি না। সম্মোহিত অবস্থায় কিন্তু
সম্মোহনকর্তা আমাদের সেই লুকানো শক্তিকে সজাগ করে অনেক আপাত কঠিন কাজ আমাদের কে দিয়ে করিয়ে নেন। সে কারণে আমাদের জানতে হবে যে সজ্ঞান অবস্থায় আমরা কি ভাবে আমাদের ঐ সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তাকে দিয়ে ইচ্ছানুসারে কাজ করাতে পারব।
সম্মোহিত অবস্থায় থাককালীন সমস্ত ইন্দ্রিয়ই অসাধারণ কাজ করে দেখাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কোন অঙ্গের পীড়াও একদম ঠিক হয়ে যেতে পারে। এইভাবে দর্শনেন্দ্রিয়, স্বাদেন্দ্রিয়, ঘ্রাণেন্দ্রিয় শক্তি এত অধিক শক্তিশালী করা যায় যে- যে কোন প্রকার সুক্ষ্ম পার্থক্যও বুধতে অসুবিধা হয় না। এমন কি এর দ্বারা জলের পরিবর্তনও বুঝতে পারা যায়। অতীতের কোন স্মৃতি ও মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়। এতএব যে মানসিক শক্তি মানুষকে মানুষ্যোত্তর শক্তি প্রদান করে তা মানুষের মধ্যে পূর্ব থেকেই থাকে। কিন্তু মানুষের চেতন শক্তি/মন তা প্রয়োগ করতে বাধা দেয়।
একথা ঠিক নয় যে যেকোন অদ্ভুত বা চমৎকার কাজ শুধুমাত্র সম্মোহিত অবস্থাতে সফল হবে এমন কোন কথা নেই। জাগরিত অবস্থাতেও এমন করা সম্ভব। শুধুমাত্র বিশ্বাসের উপর ভর করে বহু রোগ দূর করা যায়। কোন বাড়ি বা হাসপাতালে আগুন লাগলে সেখানে বছর বছর ধরে পড়ে থাকে প্যারালাইসিস রোগী (চলৎশক্তিহীন) দৌড়ে বাইরে চলে আসে। এটি আত্মচেতনা জাগরিত হবার উদাহরণ মাত্র। মানুষ তার চেতন মনে দৈনিক জীবনের সমস্যার বিষয়ে আবশ্যক সতর্কতা বজায় রখে তবে এরও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু বিপদকালে সেই সীমাবদ্ধতার গণ্ডী আত্মচেতনার জাগণের সাথে সাথে সক্রিয় হয়ে অতিক্রম করে যায়। ফলে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব কাজকে মানুষ সম্ভব করতে পারে। যে ব্যক্তির আত্মচেতনা জাগরিত হয়েছে সে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা লাভ করে। কোন বিষয়ে যদি বিশেষ চেষ্টা নেওয়া যায় এবং তা যদি অত্যন্ত গভীর হয় তবে অবশ্যই সফলতা পাওয়া যায়। প্রত্যেক ব্যক্তির মনোবৈজ্ঞানিক ব্যবহার তার কোন কাজে সফলতা লাভের ক্ষমতার উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। মানুষ তার ব্যক্তিত্বের বিকাশে যতই সচেষ্ট হবে ততই তার মানসিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।
অবচেতনমনে শুধুমাত্র ব্যক্তির জ্ঞান এবং অনুভব শক্তিই নেই, তাতে আছে চেতনমন দ্বারা সঞ্চিত বিশাল ভাণ্ডার। মানুষের অধিকারে যে জ্ঞান ও অনুভব শক্তি আছে তা তার চেতনমন দ্বারা অর্জিত। সম্মোহনের দ্বারাই এই ভাণ্ডারের বিষমতাকে দূর করা যায়।
মানুষ তার প্রতিভার দ্বারা অদ্ভুত মানসিক  কাজ করে দেখাতে পারে। তবে এজন্য তাকে মনোবৈজ্ঞানিক বন্ধন থেকে মুক্ত হতে হবে যা মানুষের আত্মচেতনাকে বেঁধে রাখে। যদি মানুষ তার লক্ষ্য নির্ধারিত করে নেয় তখন সে তার আত্মচেতনাকে ঠিক সেরুপই জাগরিত করে নিতে পারে যেমনটা সম্মোহিত অবস্থায় হয়। কারণ প্রতিটি ব্যক্তি সম্মোহিত অবস্থায় অবচেতনমনের দ্বারা যে সব কাজ করতে পারে তা সে জাগরিত অবস্থাতেও করতে পারে, সে ক্ষমতা ও তার মধ্যে আছে। যখন এই ক্ষমতা মানুষ পাবে তখন কোন কাজই তার কাছে অসম্ভব বলে মনে হবে না। যদি সে এই ব্যাপারে আংশিক সফলতাও পায় তবু তার স্থান সাধারণ মানুষের থেকে উঁচু স্থানে থাকবে। আত্মচেতনাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মানুষ তার সাহায্যে অনেক অসম্ভব কাজকে সম্ভব করতে পারে। তবে তা তখনই সম্ভব হবে যখন মানুষ তার আত্মচেতনাশক্তিকে অবচেতন বা চেতন মনের অন্তনিহিত প্রভাব থেকে মুক্ত করতে পারবে।
পুরো নিষ্ঠার সঙ্গে স্বাভাবিক ও সহজ ভাবে  নিজের আত্মচেতনা শক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রতিদিন নিয়ম মতো চেষ্টা করতে হবে। যখনই তা সম্ভব হতে শুরু করবে তখনই সব দিয়ে আরো অধিক সফলতা মিলতে শুরু করবে। এই ভাবে আত্মচেতনার উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ যত বাড়তে থাকবে ততই মানুষ  অসম্ভব কাজ অনায়াসে করতে পারবে।
যেমন অভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক দেহচর্চার দ্বারা মাংসপেশী সবল হয়  তেমনি মানুষের মানসিক শক্তির বিকাশও সম্ভব হয়। এর জন্য মানুষ তার প্রত্যেক ভাবনা ও ইচ্ছাকে নিজের অধীনে রাখবে এবং আত্মচেতনাশক্তি দ্বারা তা বাস্তবায়িত করবে। এর ফলে কোথাও কোন রুপ বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে না। এই ভাবে মানুষ নিজের চারিপাশে অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি করতে পারে। আসলে আত্মচেতনা হলে সেই শক্তি যা মানবকে মহামানবে পরিণত করে দেয়।

Share This Post

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

More To Explore

All Post

পুরুষের যৌন সমস্যা

আমরা একটি বিষয় খুব ভালো ভাবেই জানি যে সুন্দর চেহারা, সুঠাম দেহ আর প্রচুর অর্থ থাকলেই সুপুরুষ হওয়া যায় না, সুপূরুষ হতে হলে তার সুঠাম দেহের পাশাপাশি চাই সুস্থ যৌন শক্তি, তবেই সে পুরুষ।

All Post

আমাদের চিকিৎসা সেবা সমূহঃ

আমরা আমাদের প্রতিটি চিকিৎসা ১০০% পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত হোমিও প্যাথি বা আর্য়ুবেদিক পদ্ধতীতে দিয়ে থাকি। যদি কোন রোগি কদাচিৎ সুফল লাভে ব্যর্থ হয় তবে তার ক্ষেত্রে ১০০% চিকিৎসা ফি রিটার্ন গ্যারান্টি। আমরা যে সকল রোগের ১০০% গ্যারান্টিযুক্ত ঔষধ দিয়ে থাকিঃ  ডায়াবেটিস  ব্লাড পেশার  অনিদ্রা  যে কোন ধরনের যৌন রোগ  অতিরিক্ত স্বপ্ন দোষ  মাথার চুল ঊঠা বা টাগ রোগ  পাইলস/অর্শ/ভগন্দর  আমাসা/ রক্ত আমাসা  মাথার সমস্যা/পাগলামি  হাতে

আপনার সকল তান্ত্রিক সমস্যার একমাত্র নির্ভূল সমাধান আমাদের কাছেই পাবেন

৩৬৫ দিনের যে কোন সময়’ই আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, সেবা গ্রহন করতে পারেন।