ইতি মধ্যেই আমরা যৌন মিলনের বিভিন্ন দিক নিদর্শন তুলে ধরেছি, আজ আমরা তারি ধারাবাহিকতায় আলোচনা অবগত রাখবো। আমাদের আজকের আলোচনা যৌন মিলনের আসন সর্ম্পক্যেঃ-
যৌন মিলনের আসন একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি কোন আসনে রতিক্রিয়া করছেন সেটির উপরেও নির্ভর করে পার্টনার কতটুকু তৃপ্তি পাচ্ছে আর কতক্ষনে তার পূর্ণতৃপ্তি হবে। চেষ্টা করুন নিম্নের ছবির ন্যায় আসনে যৌন মিলন করার, এতে যোনীতে ঘর্ষন বেশি হয় বিধায় নারীর তৃপ্তিও দ্রুত ঘটে অধিক মজা গ্রহন করতে পারে। 

উপরক্ত ভঙ্গিতে যখনি আপনি রতিক্রিয়া করবেন নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার পার্টনার সিৎকার ছাড়ছে অর্থাৎ তার চরম আনন্দ হচ্ছে। এ ছাড়াও আরও একটি আসনে আপনি চালনা করতে পারেন এটিতেও আমাদের এশিয়া মহাদেশের অধিকাংশ নারি চরম আনন্দ উপভোগ করে।

আপনি যদি একজন নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাষি ব্যক্তি হয়ে থাকেন আর আপনি যদি চান আপনার পার্টনার তার ইচ্ছেমত যৌনসুখ ভোগ করুক তবে নিম্নক্ত আসন বেছে নিতে পারেন এতে সে নিজের মত করে অঙ্গ চালনা করে চরম সুখ আস্বাদন করতে পারে।

যদিও এতে নারি তার ইচ্ছেমত সময় নিয়ে এখানে রতিক্রিয়া করে থাকে তবে যদি আপনি পরিপূর্ণ সামর্থবান ব্যক্তি না হয়ে থাকেন তবে এ নিয়মে না যাওয়াই শ্রেয়, কারন এতে করে পুরুষের নিম্নাঙ্গে চাপ পড়ায় দ্রুত বির্যপাত হতে পারে আর এমতাবস্থায় যদি নারী তার রতিক্রিয়ায় মগ্ন থাকে তবে সে সময় দ্রুত লিঙ্গ বের করে বাইরে বির্যপাত করার সুযোগ নাও পেতে পারেন। আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি আপনি যদি পর্যাপ্ত আলোতে সঙ্গীর চোখে চোখ রেখে রতিক্রিয়া করেন, যোনীতে বির্যপাত না করে বির্যপাতের অনুভব হওয়ার সাথে সাথে বাইরে বির্যপাত করে লিঙ্গ মুছে পুনরায় যোনীতে লিঙ্গ চালনা করেন তবে অবশ্যই আপনি এমনিতেই দির্ঘ্যক্ষণ পর্যন্ত রতিক্রিয়া করতে পারবেন এবং আপনার যৌন সঙ্গীকে চরম পুলক দান করতে পারবেন।
Sexual pursuit in a married life (দাম্পত্য জিবনে যৌন সাধনা)
যৌন সাধনার আলোচনায় আমাদের সর্বপ্রথম জানতে হবে যৌন অর্থাৎ কাম সর্ম্পক্যে শাস্ত্র কি বলে?
তন্ত্রশাস্ত্রে বিভিন্ন রোগের ঔষধ সর্ম্পক্যে বিবরনী যেমন রয়েছে তেমনি কাম বিষয়ক ঔষধাদি সম্বন্ধেও বিভিন্ন নির্দেশ ও নিয়মাবলি বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। কারন নারী সহবাসের জন্য এগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভৈরবী চক্র প্রভৃতি সাধনায় নারীর দেহ উপভোগ সাধনার একটি প্রধান অঙ্গ বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। কৌলাচার–কামাচারের মধ্যে তো খোলা খুলি ভাবে কামোপযোগের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে।
বিধায় রতিক্রিয়াকে সফল করতে যৌন ক্রিয়ায় বিজয়ী হতে, সুখের সাগরে অবগাহন করে পূর্ণ তৃপ্তি পেতে শরীরের যেমন শক্তি থাকা প্রয়োজন তেমনি প্রচুর কামশক্তি, ও দীর্ঘ্ সময় রতিক্রিয়ায় মত্ত থাকার মত সামর্থ্য থাকাও জরুরী। আর এ সবের জন্য আমাদের খুব ভালো ভাবে যৌন শাস্ত্র যৌন জ্ঞ্যান থাকা বাঞ্চনিয়। আর সম্ভবত সে উদ্দেশ্যেই তন্ত্রাচার্যগণ এমন অনেক ঔষধাদির সন্ধান দিয়ে গেছেন এমন কিছু যৌন রিতি শিখিয়ে গেছেন সেই সাথে আর্য়ুবেদ শাস্ত্র থেকেও অনেক ঔষধির কথা উল্লেখ করে গেছেন। এই সকল ঔষধ প্রয়োগে বা সে সকল যৌন রিতি মেনে আমরা স্থায়ী ভাবে আমাদের কামশক্তিকে বৃদ্ধি করতে ও আমাদের কামাঙ্গকেও শক্ত, দৃঢ়, কর্মঠ করে তুলতে পারি।
আজ আমাদের বিষয় যৌন ক্রিয়ায় পুরুষের কিছু রিতি যা দ্বারা পূরুষ তার যৌন ক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত ও আনন্দঘন করে তুলতে পারে সেই সাথে তার সঙ্গিকেও দিতে পারে চরম পূলক। বর্তমান সমাজে বিবাহিত নারীদের মাঝে অধিকাংশ নারীর জীবনে চরম পূলক কি তা তারা জানেই না, বিশেষ করে গ্রাম বা পল্লী অঞ্চলের নারীরা, এখনো আমাদের সমাজে নারীদের সন্তান জন্ম দানের মেশিন ও পুরুষের যৌন চাহিদা পূরনের পুতুল ছাড়া কিছুই ভাবা হয় না। এমন হাজারো পুরুষ রয়েছে যারা তাদের যখন যে ভাবে খুশি যৌন তৃষ্ণা মেটাতে স্ত্রীদের ব্যবহার করে অথচ তার স্ত্রীর যৌন তৃপ্তি হয়েছে কি না তার দিকে ভ্রুক্ষেপ’ই করে না। অনেকেই আবার মনে করে থাকে সন্তান যেহেতু জন্ম নিয়েছে সুতারাং সেটা তো এমনিতেই হয় নি, অবশ্যই স্ত্রীরও যৌন চাহিদা মিটেছে। কিন্তু সেই সকল মুর্খ্যরা আজও জানে না, যে যদি নারীর গর্ভধানের উর্বর সময় হোমিও ড্রপারে করে পুষ্ট শুক্রানু তার যোনীতে দুফোটা দেওয়া যায় তবেও সে গর্ভধারন করবে, যৌন মিলনেরও প্রয়োজন পরবে না। এমনি ভাবে সমাজে আর একটি কথা প্রচলিত আছে, যারা নাকি অনেক বেশি সেক্স পারদর্শী হয় তাদের’ই কেবল পুত্র সন্তান হয়। এই কথাটাও সম্পূর্ণ বাস্তবতার সাথে উল্টো, যা হোক এ বিষয় পরে</span > কখনো আলোচনা করা হবে।
প্রথমত আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি যৌন মিলনের জন্য আমাদের সঠিক স্থান নির্বাচন করতে হবে, এরপরবর্তী ধাপটি হচ্ছে শারীরিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্যতা। আমরা দেখেছি যে অনেকে যৌন মিলনের সময় এ বিষয়টি অবহেলা করে বিশেষ করে বিবাহিত স্ত্রী পুরুষদের ক্ষেত্রে, যৌনকেশ নিয়মিত পরিষ্কার না করা, বগলের লোম পরিষ্কার না করা( কিছু কিছু নারী পুরুষ যৌন কেশেই বেশি উত্তেজনা অনুভব করে তাদের বিষয় এখানে বাদ), মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে যৌন ক্রিয়ায় রত হওয়া। পুরুষের মুখে খোচা খোচা দাড়ি বেশ বিরক্তকর ও অতৃপ্তিদায়ক, নারী মুখে না বললেও এটি আমাদের মনে রাখা উচিৎ, তবে হে যদি আপনার দাড়ি লম্বা হয় তবে তাতে তেমন সমস্যা নেই, বরং তখন দাড়ির পরশ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে পুলক তৈরীতে সহায়ক হয়। আমরা অবশ্যই এই বিষয়গুলোর দিকে প্রখর ভাবে দৃষ্টি দিবো তাহলেই আমরা বুঝতে পারবো আমাদের ভিতর যৌন আকাঙ্খা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর যখন যৌন আকাঙ্খা বৃদ্ধি পাবে তখন এমনিতেই যৌনক্রিয়ায় সময় বৃদ্ধি ঘটবে। তবে এ জন্য কিছু আয়ুর্বেদীক প্রচুর ভাবে ব্যবহৃত কোন প্রকার পার্শপ্রতিক্রিয়া বিহিন বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত ঔষুধের নাম আমরা লিখে দিবো যা আপনি অনায়েশেই নিজেই তৈরী করতে বা আশে পাশের দোকানে কিনতে পাবেন।
Sexual pleasure in a married life (দাম্পত্য জিবনে যৌন সুখ)
প্রাচীন কাল হতেই যৌন সাধনার বিষয় বিভিন্ন শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, যৌনতায় তৃপ্তি পেতে আয়ুর্বেদ, তান্ত্রিক বিদ্যায় এর জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিভাগ। আমরা দেখেছি আমাদের পূর্ব পুরুষগন, একের অধিক স্ত্রী গ্রহন করেও তাদের ছিলো সুখি দাম্পত্ব্য, কোনো নারী কলঙ্ক, পরকীয়া ইত্যাদি খুব একটা শোনা যেতো না, কিন্তু এখন আমাদের ঘরের স্ত্রীর শারীরিক চাহিদা আমরা পুরন করতে ব্যর্থ, আমরা ভুলে যাই যে একটি নারীর জন্য ভরন পোষন দুটোই সঠিক ভাবে প্রদান করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু আমরা তার পোষনের অন্ন বস্ত্র হয়তো সঠিক ভাবেই বা কখনো কখনো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি’ই প্রদান করছি কিন্তু তার ভরন (যৌন চাহিদা) দিতে ব্যর্থ হচ্ছি, যার ফলে, সে তার চাহিদা মেটাতে ঘর ছেরে বাইরে হাত পাততে বাধ্য হচ্ছে, আবার উল্টো আমরা তাকেই কলঙ্কীনি, নষ্টা, ভ্রষ্টা বিভিন্ন নামে সমাজে হেয়ো প্রতিপন্ন করছি। কিন্তু একটি বারও ভাবছি না, যদি সেই নারী বা মেয়েটি আপনার শারীরিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হতো তবে কি আপনি তাকে ভালোবেসে আদর দিয়ে বাড়ীতে রাখতেন?? যা হোক এ বিষয় পরবর্তীতে আরো বিস্তার আলোচনা হবে, আমরা আজ কি ভাবে, আপনি আপনার স্ত্রীকে বিছানায় পূর্ন তৃপ্তি দিতে পারবেন, সে বিষয় আলোচনা করাবো। প্রথমত আপনাকে অবশ্যই ভয়হীন হতে হবে। আমাদের অনেকের মাঝেই যৌনতা নিয়ে মনের গহীনে ভয় থাকে, যেমন- আমি কি আমার স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে পারবো? এসব ভয় আপনার মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন, অন্ধ কুসংস্কার হতে বের হয়ে আসুন। আপনার স্ত্রীকে বা যৌন পার্টনারকে ভালোবাসতে শিখুন। যৌনতায় আপনার একার তৃপ্তি’ই উদ্দেশ্য নয়, দুজনার একত্রে তৃপ্তি পাওয়াতেই রয়েছে স্বর্গীয় সুখ সেটি বুঝতে শিখুন। চেষ্টা করুন, আপনি যেখানে বা যে বিছানায় যৌনতায় লিপ্ত হবেন সেটি যেনো সম্পূর্ণ কোলোহল মুক্ত, নিরাপদ, স্বাধীন স্থান হয়, এমন কোথাও মিলিত হবেন না যেখানে বিভিন্ন প্রকার মনের মাঝে শঙ্কা আসে। যেমন কেউ যদি দেখে ফেলে, কেউ যদি চলে আসে, কেউ ডাকবে না কি ইত্যাদি। কি ভাবে আপনি যৌনতায় তৃপ্ত হবেন, যৌন সঙ্গিকে তৃপ্তি দিবেন সেই বিষয়গুলোই আমাদের এখানে আলোচনা ও সকল খুটি নাটি সমস্যাগুলোর সমাধান দেওয়া হবে। আপনি নিজেও খুব ভালো ভাবেই জানেন যে আপনি যৌনতায় লিপ্ত হয়ে হয়তো, খানিক সময়ে স্বার্থ সিদ্ধি করে সরে গেলেন আপনার পার্টনার তখনো কামনায় অস্থির এমতাবস্থায় আপনার মাঝেও অপরাধ বোধ গ্লানী হতাসা কাজ করে, এমন পরিস্থিতির কারনেই সংসারে অশান্তি, পরকিয়া, সন্দেহ এমনকি সর্ম্পক্য টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে পরে। সুতারাং আমাদের প্রত্যেকেরই এটি মাথায় রাখতে হবে, যৌনতা শুধু নিজের স্বার্থ সিদ্ধির বিষয় নয়, একটি চরম আনন্দ ও যৌথ ভাবে সুখের সাগরে কিছুক্ষণ অবগাহন করে স্বর্গীয় সুখ আত্বস্থ করার নাম।
Sexual pursuit (যৌন সাধনা)
উপরক্ত নামটিতেই প্রতিয়মান হয় যে আজকের বিষয় মূলত যৌন সাধনা, আসলে যৌন সাধনা বলতে তান্ত্রিকতায় নির্দিষ্ট কোনো সাধনা নেই বা এর কোনো সাধনা হয় না। তবে আমরা এখানে এটিকে সাধনা বলার পিছনে অনেকগুলো কারন রয়েছে।
আমাদের বর্তমান দ্রুত ছুটে চলা সমাজ জীবনে একে অন্যের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, কি ভাবে অনেক অনেক বেশি অর্থ, সন্মান, অধিপত্য বিস্তার করতে পারবো। আমরা এটি ভুলে যাই যে আমরা মানব, দুনিয়াতে আমাদের আসার ও এখানে টিকে থাকতে বা সকল কিছু অর্জনের পিছনে নির্দিষ্ট দুটি বিষয়কেই আর্বতন করা ছাড়া আমাদের অন্য কিছুই লক্ষ্য নয়, হতে পারেও না। আমাদের মনের মাঝে সামনে এগোনোর যে প্রবনতা কাজ করে সেটিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমাদের মানব জন্মের মুল উদ্দেশ্যকেই আমরা অগ্রাহ্য করে চলছি।
আমরা কি কখনো ভেবেছি মানুষ হিসেবে আমরা জন্ম নিয়ে, এই পৃথিবীতে যাহা কিছুই করি না কেনো। সবকিছুর পিছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ কিন্তু দুটাই, আর তা হলো পেটের ক্ষুধা, যৌন ক্ষুধা নিবারন করা। আর এ দুটি মেটাতে গিয়েই আমরা জরিয়ে পরছি হাজারো দুনিয়াবি বিষয়ে।
আমাদের বর্তমান জনসমিষ্টির ৮৫% মানুষ আজ যৌনায় সুখি নয়, অনেকেই হয়তো মনের ক্ষুধা মেটাতে একের অধিক যৌন সংগির সাথে মিলিত হচ্ছি ঠিকই কিন্তু এখানেও একক ভাবে তৃপ্তি হয়তো হচ্ছে, যৌনতা হচ্ছে না।
আমরা জানি, কোনো পুরুষ বা নারী যদি এই একটি বিষয় সুখি না হয়ে থাকে তবে তার দ্বারা কখনোই উন্নতির চরম স্পর্শ্য করা সম্ভব নয়। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই দেখি পুরুষ শাষিত সমাজে আমরা নিজের চাহিদা মেটাতে নারী সমাগত হই ঠিকই, কিন্তু কখনই নারীটির তৃপ্তি বা তার চাহিদার দিকে নজর দেই না, নিজের অপৌঢ়ষ যৌনতার মিথ্যে অহমে তাকে শক্তি বলে দমিয়ে রাখি। যেখানে একটি সুষ্ঠ সুন্দর যৌন মিলন, যেমন একজন পুরুষকে তেমনি একটি নারীকেও দিতে পারে অনিন্দ স্বর্গীয় সুখ। আমাদের এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করবো, কোনো প্রকার ক্ষতিকর কৃত্তিম ড্রাগ নিয়ে নিজের ও যৌন সংগির জীবন সংশয় না করে, কি ভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে, কিছু যৌন কৌশল অবলম্বন করে নিজের ও যৌন সংগীর এই স্বর্গীয় সুধা আস্বাদনের উপায় পেতে পারি। প্রয়োজনে একান্ত্য ক্ষেত্রে তান্ত্রিক উপাচার অবলম্বনে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।